পঞ্চম পতি, পঞ্চমভাব, রবি, বুধ, বৃহঃ গ্রহ জন্মকালীন অশুভ হলে সাধারণত জাতক জাতিকা বিদ্যা ও বুদ্ধিহীন হয়ে থাকে । এরকম জাতকের পড়াশুনা বেশি দূর এগোয় না তাঁর কারণ হলো জন্ম লগ্নের পঞ্চম ভাব ও পঞ্চমপতি বিদ্যা, বুদ্ধি ও প্রতিভার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।
রবি গ্রহ মানুষের মস্তিষ্ক, বৃহঃ গ্রহ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান, বুধ গ্রহ মানুষের স্মরণ শক্তি ও মেধা, এবং চন্দ্র গ্রহ মানুষের মনের একাগ্রতার প্রধান কারক গ্রহ। এই জন্য উপরোক্ত ভাব ও গ্রহ অশুভ মানুষের বিদ্যা শিক্ষা ততটুকু এগোয় না।
বিদ্যা কারক গ্রহ বা ভাবের প্রতি অশুভ গ্রহের যোগ বা দৃষ্টি থাকলে অথবা বিদ্যা কারক গ্রহ সমূহ কোন অশুভ ভাবেরও যদি অধিপতি হয়ে থাকে তাহলেও মানুষের বিদ্যা শিক্ষা বেশি দূর এগোতে পারে না।
এরকম জাতকের মধ্যে মেধা, প্রতিভা সবকিছু থাকা সত্ত্বেও অমনোযোগীতা অথবা সঙ্গদোষের কারণে শিক্ষায় অধঃপতন হয়ে থাকে। এই জন্য প্রতিটি মা বাবার উচিত নিজের বাচ্চার জন্ম কুন্ডলী বা হাত বৎসরে এক দুই বার কোন বিজ্ঞ জ্যোতিষী দিয়ে বিচার করিয়ে নেওয়া।
আচ্ছা আপনার বাচ্চার কুন্ডলিতে কি এরকম কোন অশুভ যোগ নেই তো ? তা তো একবার জানুন..... যদি এরকম কোন অশুভ যোগ থেকে থাকে তাহলে সবার আগে তাঁর প্রতিকার করান তখন দেখবেন আপনার বাচ্চাও ভালো করে মন দিয়ে পড়াশুনা করবে এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রস্ত্রানুসার বিদ্যা শিক্ষার কয়েকটি মহত্বপূর্ণ যোগ:
১)যদি পঞ্চমপতি , বৃহঃ বা শুক্র পঞ্চমে থাকলে এবং চন্দ্র ও মঙ্গল মিথুন রাশিতে থাকলে জাতকের বিদ্যা বুদ্ধি খুবই প্রখর হয় এবং পড়াশুনাতেও জাতক খুব ভালো হয়।
২)যদি মেষ লগ্নে রবি ও বুধ থাকে এবং পঞ্চমে বা নবমে বৃহঃ থাকে তাহলেও জাতক জ্ঞানী গুণী ও শিক্ষিত হয়।
৩)যদি লগ্নপতি ও নবম পতি একাদশে এবং চন্দ্র শুভ হয়ে নবমে থাকে তাহলেও জাতক বিদ্ধবান হয়ে থাকে।
৪)বৃষ লগ্নে যদি চন্দ্র থাকে, কন্যা রাশিতে বুধ এবং মীন রাশিতে যদি বৃহঃ থাকে তাহলে জাতক পন্ডিত হয়ে থাকে এবং শিক্ষিত সমাজে খুবই নাম ও যশ অর্জন করে থাকে।
৫)যদি কারো জন্ম কুন্ডলিতে লগণপতি, পঞ্চমপতি এবং নবম পতি একত্র হয়ে কেন্দ্রে বা কোনে থাকে তাহলেও জাতকের পড়াশুনায় ভালো রেজাল্ট আসে।
৬)লগ্নে বুধ এবং ত্রিকোনে চন্দ্র ও বৃহঃ থাকলে জাতকের খুবই বিদ্যা বুদ্ধি হয় এবং পরীক্ষায়ও ভালো রেজাল্ট করে থাকে।
৭)যদি চন্দ্র ও বুধের পরস্পর দৃষ্টি থাকে এবং তারা যদি বৃহঃ ও শুক্র দ্ধারা দৃষ্ট হয় তাহলেও জাতকের খুব বিদ্যা বুদ্ধি হয়ে থাকে।
৮)যদি বুধের ক্ষেত্রে লগ্ন হয়, বুধ ও বৃহঃ ত্রিকোনে থাকে এবং চন্দ্র ও শুক্র কেন্দ্রে থাকে তাহলে জাতক প্রখর তেজস্বী ও পান্ডিত্যের অধিকারী হয়ে থাকে।
৯)যদি লগ্নে বৃহঃ পঞ্চম ভাবে শুভ গ্রহ থাকে তাহলেও জাতক পড়াশুনায় সুনাম অর্জন করতে পারে।
10যদি পঞ্চমপতি তুঙ্গী এবং দুটি শুভ গ্রহের মধ্যে বুধ থাকে তাহলে জাতক পড়াশুনায় খুবই ভালো হয়ে থাকে।
১১)যদি লগ্নে চন্দ্র থাকে, কেন্দ্রে বা ত্রিকোনে শুক্র থাকে এবং কর্কট বা মীন রাশিতে যদি বৃহঃ থাকে তাহলেও জাতক জ্ঞানী হয়ে থাকে ।
১২)যদি লগ্ন পঞ্চম ও দশমে শুভগ্রহ এবং লগ্নধিপতি বলবান হয় তাহলেও জাতক মহা জ্ঞানী ও তেজস্বী হয়ে থাকে।
১৩)যদি রবি, চন্দ্র, বুধ পাপযুক্ত কিংবা পাপদৃষ্ট না হয়ে শুভভাবে থাকে এবং বৃহঃ ও শুক্র যদি উচ্চ হয় তাহলে জাতক খুবই বিদ্ধান, জ্ঞানী ও প্রতিভাবান হয়।এরকম জাতক পড়াশুনায় খুবই পারদর্শী হয়।
১৪)যদি কন্যা লগ্ন হয় এবং তাহাতে যদি চন্দ্র , বুধ, বৃহঃ কিংবা শুক্র দৃষ্ট হয় তাহলে জাতকের খুবই বিদ্যা বুদ্ধি হয়ে থাকে।

0 टिप्पणियाँ