রুদ্রাক্ষের পৌরাণিক মাহাত্ন্য

হাজারো বছর আগেই রুদ্রাক্ষের প্রশংসা ও গুনাগুন হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে অনেক বারই বলা হয়েছে, বর্তমানে এর খ্যাতি ও মাহাত্য ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নয়নশীল দেশের আধুনিক বিজ্ঞানীরাও পরীক্ষা মূলক ভাবে স্বীকার করেছেন। 
এবং এইসব দেশের বিজ্ঞানীরা রুদ্রাক্ষের অলৌকিক
এবং ঔষধীয় গুন সম্পর্কে নিত্য নতুন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন ব্রিটিশ গবেষক তাঁর রুদ্রাক্ষ বিষয়ক এক পুস্তকে লিখেছেন যে রুদ্রাক্ষের দ্ধারা অসম্ভব কার্য্যকেও সম্ভব করা যেতে পারে। পথে ভ্রমনকারী ব্যক্তির পথের বাধা থাকে না ,রুদ্রাক্ষ ধারণকারী ব্যক্তি প্রতিকূল পরিস্থিতেও বিজয় লাভ করতে পারে । এই ব্রিটিশ গবেষক এইটুকু পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন যে রুদ্রাক্ষ ধারণ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যেতে পারে।
আমেরিকার এক গবেষক শ্রীমতী সুষন তাঁর এক পত্রিকায় এই কথা স্বীকার করেছেন যে রুদ্রাক্ষের তান্ত্রিক প্রয়োগ দ্ধারা বন্ধ্যা নারীও ঈপ্সিত সন্তান লাভ করতে পারে। রুদ্রাক্ষের সহায়তায় দুরারোগ্য ব্যাধিও সহজে নিরাময় হয়ে থাকে ।
বাস্তবিক পক্ষে রুদ্রাক্ষের মধ্যে নানাপ্রকার অত্যাশ্চর্য গুন নিহিত আছে যার জন্যই রুদ্রাক্ষ ধারনে মানবের অশেষ কল্যাণ সাধন হয়ে থাকে। রুদ্রাক্ষ ধারনে নিসন্তানের সন্তান লাভ হয় , রুদ্রাক্ষ ধারনে দারিদ্রতা দূর হয়, স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় , অকাল মৃত্যুভয় দূর হয়। এই জন্য প্রতিটি মানবের উচিত গ্রহ দোষ থেকে রেহাই পাবার জন্য নিদেন পক্ষেও অনন্ত একটি রুদ্রাক্ষ ধারণ করা।একদিন মহামুনি স্কন্দ দেবাদিদেব মহাদেব কে জিজ্ঞেস করলেন হে ভগবান আমি রুদ্রাক্ষ ধারণ করার শ্রেষ্ঠ মন্ত্র সমূহের গুণ সম্বন্ধে জানতে চাই অনুগ্রহ করে সে কথা আমাকে বলুন, তখন ভগবান শঙ্কর বললেন হে সুরসত্তম মহামুনি, রুদ্রাক্ষের মাহাত্য সম্ভন্ধে কারো কিছু বলার সাধ্য নেই,তবুও আমি এর বর্ননা করছি মনযোগ সহকারে শ্রবণ করো ,যে মনুষ্য মন্ত্র দ্ধারা অভিমনত্রিত রুদ্রাক্ষ ধারণ করে সেই ব্যক্তির রুদ্রলোকে বাস হয় তাতে কোন সন্দেহ নাই, আর যে ব্যক্তি মন্ত্র দ্ধারা অভিমনত্রিত না করে রুদ্রাক্ষ ধারণ করে সেই হতভাগা নরাধম ব্যক্তির নরকে বাস হয়ে থাকে এবং যতদিন চতুর্দশ ইন্দ্র থাকে ততকাল সেই ব্যক্তি নরক যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে। রুদ্র বালোপনিষদ এ কথা বলা হয়েছে।।।
তাছাড়া শিব পুরানে বলা হয়েছে মন্ত্র দ্ধারা অভিমনত্রিত রুদ্রাক্ষ ধারনে ভূত প্রেত, পিশাচ, যক্ষ রাক্ষস, ডাকিনী যোগিনী সবাই পলায়ন করে। গ্রহদোষ দূর হয়, কাম শক্তি বৃদ্ধি তথা শত্রুভয়ের নিবারণ হয়।
এই জন্য মন্ত্রপূত আসল রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত তখনই কাজের কাজ হয়, যারা হাতের কাছে সস্তায় পেয়ে যেখান সেখান থেকে রুদ্রাক্ষ কিনে নিয়ে ধারণ করেন তাদের কোন উপকার লাভ হয় না বরং ধারণকারীর হিতে বিপরীত ফল লাভ হয়ে থাকে। নিজের ইষ্ট সিদ্দির জন্য ও গ্রহ দোষ নিবারনের জন্য মন্ত্রপূত আসল রুদ্রাক্ষ ধারণ করুন তখনই লাভ হবে।