দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে চোখের যত্ন:
আমাদের জীবনের সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো চোখ! তাই
আমাদের সকলেরই উচিত চোখের যত্ন নেওয়া। চোখ ভালো থাকলে আমাদের দৃষ্টিশক্তিও ভালো থাকবে। অন্যথা আমাদের
চশমা
নির্ভর হয়ে জীবন-যাপন করতে হবে। চশমা নির্ভর হয়ে জীবন যাপন করার চেয়ে অনেক সহজ কাজ হলো চোখের
যত্ন নেওয়া, তাই আজকের এই পোষ্ট চোখের সু-স্বাস্থ্যের
উপর কেন্দ্রিত করা হলো।
অনিদ্রা, মানসিক উদ্ধেগ, শোকানুকূলতা, টেনশন, পেটের রোগ বা লিভারের দৌর্বল্যতা, অসন্তুলিত ভোজন, রক্তহীনতা সাধারণত: প্রভৃতি কারণে চোখের নীচে কালো বৃত্ত সৃষ্টি হয় আর তাতে মূখের সৌন্দর্য্য নষ্ট
হয়। অত্যাধিক
রোদের তেজ, আগুনের ধূঁয়ো, ধূলো-বালি মিশ্রিত বায়ূ দ্ধারাও আমাদের চোখ নিত্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
অবশ্য কিছু ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ করলে চোখের কালো বৃত্তও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়, চোখের
স্বাস্থ্যও রক্ষা পায় এবং চোখের জ্যোতিও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তাহলে জেনে
নেওয়া যাক-
চোখ দুটিকে ভালো রাখতে হলে:
*প্রতিদিন সকালে ঘুম থকে উঠে মূখ ভরে জল নিন এবং নিজের চোখ ও মূখের উপর ১৫-২০ বার ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিন এই প্রয়োগে চোখে শীতলতার অনুভূতি হয়,
আলস্য ভাব দূর হয়, শরীরে স্ফুর্তি আসে এবং চোখের
জ্যোতিও বৃদ্ধি পায়।
*নিয়মিত রূপে
প্রতিদিন চোখের নীচের কালো বৃত্তের উপর দেশী গরুর দুধের মলাই লাগান। এবং সম্ভব
হলে কাঁচা আলুকে মধ্যেখানে কেটে দু-টুকরো করে চোখের নীচের কালো বৃত্তের উপর ৩০ মিনিট
লাগিয়ে রাখুন, তারপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে চোখ
ধূয়ে নিন এভাবে পরপর কয়েকদিন করলেই চোখের নীচের কালো বৃত্ত ঠিক হয়ে যাবে।
*একমাত্র ভ্রু-যুগলই
পারে চোখের সৌন্দর্য্যতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে, তাই চোখের সাথে সাথে
ভ্রূ যুগলেরও যত্ন নেওয়া উচিত। সপ্তাহে অন্তত একবার ভ্রযুগলের উপর জৈতুনের তেল মালিশ করুন, মাঝে-মধ্যে বরফ ঘষুন এবং তন্তুদার ন্যাপকিনকে গুনগুনা গরম জলে ভিজিয়ে ভ্রুযুগলের
উপর সেঁক দিন, তাতে ভ্রুর রোমগুলো বেশ মোলায়েম, কালো এবং আকর্ষণীয় হবে ।
*শশা আর কাঁকড়ির
টুকরো কালো বৃত্তের উপর ঘষলেও চোখের নীচের কালো ভাব দূর হয়ে থাকে। গাজরের রসের
সাথে কাঁকড়ির রস মিশিয়ে প্রতি দিন ১০-১৫ মিনিট মালিশ করলেও দারুণ উপকার হয়ে থাকে।
চোখের সু -সাস্থ্যের জন্য:
*মষ্তিষ্কের
চোট-আঘাত, শোক-সন্তাপ আর
দূ:শ্চিন্তা থেকে সরে থাকুন নইলে চোখের জন্য দারুণ বিপদ ডেকে
আনতে পারে।
*গরম আর রোদ
থেকে এসে তৎক্ষণাৎ ঠাণ্ডা জলে স্নান করবেন না তাতে চোখের দ্ষটু টিশক্তি কমে যেতে পারে।
*চোখের সু-স্বাস্থ্যের
জন্য রাত্রে কখনই অনিদ্রা করবেন না কারণ অনিদ্রা চোখের জন্য নীরব ঘাতক।
*চোখ যাতে
সুন্দর, তেজস্বী আর সৌম্য থাকে সেজন্য প্রতিদিন টাটকা শাকসব্জি ও ফলমূল
আহার করুন।
*অনেক দূর
থেকে এবং অত্যন্ত চমকালো কোন বস্তুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও চোখের উপর খারাফ
প্রভাব পড়ে।
*দিনের বেলায়
অধিক্ষণ ঘুমালে, বা রাত্রে আলো জ্বালিয়ে ঘুমালে চোখের উপর চাপ পড়ে এবং চোখ রুক্ষ
ও কান্তিহীন হয়ে পড়ে।
*জোর করে মল, মূত্র
বা অধোবায়ূর বেগ চেপে রাখলে, অনেক্ষণ পর্য্যন্ত কাঁদলে আর তীব্র
গতির বায়ুর বেগ চোকের উপর লাগলেও চোখ দূর্বল হয়, তাই এসব এড়িয়ে
চলুন।
*খুব বেশী
টক,
নোনতা আর শুকনো লঙ্কা দিয়ে প্রস্তুত খাবার বেশী খাবেন না, তা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।
*দুপুরে রোদ্দুর
মধ্যে কোথাও যাওয়ার সময় চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করুন, ধুলো আর তীব্র আলো থেকে
চোখকে সর্বদা রক্ষা করুন।
*মহিলারা রাত্রে
ঘুমনোর সময় চোখে কাজল ব্যবহার করতে পারেন, কাজল চোখের জন্য দারুণ উপকারী, চোখে নিয়মিত কাজল ব্যবহার করলে চোখ অনেক রোগ থেকে রক্ষা পায়।
চোখের যত্ন নিতে কিছু ঘরোয়া উপায়:
*সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ২-৩ মাস সামান্য পরিমান
মাখন, মিছরী, গোলমরিচ একসাথে সমপরিমাণ মিশিয়ে
চেটে খান তারপর কাঁচা নারকেলের ২-৩ টুকরো খেয়ে কিছুটা মৌরী ভালো
করে চিবিয়ে খান। এই প্রয়োগে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি তো হবেই সেই সাথে শরীরও আরও বলিষ্ঠ ও পুষ্ট হবে।
*প্রতিদিন ভোজনের সাথে স্যালাডের রূপে বাধাঁকপি মিহি করে কেঁটে কিছুটা গুলমরিচের
গুরো ও সন্ধক লবণ মিশিয়ে খান এতে শরীরে “ভিটামিন এ” এর পরিমান বাড়বে, তাতে চোখের জ্যোতিও বৃদ্ধি হবে।
*প্রাত:কালে সূর্য্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে নিত্যকর্ম
থেকে নিবৃত্ত হয়ে খালি পায়ে সবুজ ঘাসের উপর কিছু সময় পায়চারি করুন এতে মষ্তিষ্কের উষ্নভাব
কম হবে এবং চোখে স্নিগ্ধতা নিয়ে আনবে।
*নেত্র-জ্যোতি বৃদ্ধির জন্য ২৫০ গ্রাম মৌরী ১০০ গ্রাম
বাদাম, ৫০ গ্রাম নারকেল এবং ৫০০ গ্রাম মিছরী একসাথে মিশিয়ে ভালো
করে কূটে নিন তারপর এই মিশ্রণ ৫০গ্রাম পরিমাণ প্রতিদিন রাত্রে আহারের পর ভালো করে চিবিয়ে
খান এতে নেত্রজ্যোতি দারুণ বৃদ্ধি পাবে এবং চোখে চশমা লাগানোর প্রয়োজনীয়তাও কমবে।
*প্রতিদিন সকালে ঘুম থকে উঠার পর এবং রাত্রে ঘুমনোর আগে চোখে কাজলের মতো মধু
লাগান তাতেও নেত্রজ্যোতি বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
*রাতের বেলায় মাটির পাত্রে জল ঢেলে তাতে ১০ গ্রাম ত্রিফলা চূর্ণ ভিজিয়ে রাখুন,
পরদিন সকালে সেটাকে ভালে করে রগরে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন তারপর সেই
জল দিয়ে চোখ মুছে নিয়ে ঠাণ্ডা জলের পট্টি চোখের উপর রেখে ৫-১০
মিনিট পর্য্যন্ত শুয়ে থাকুন। এই প্রয়োগে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
*দৈননদিন আহারের সাথে সবুজ শাক-সব্জি, বাঁধাকপি, গাজর, পেঁপে,
পাকা লাল ট্যমেটো, দুধ, মালাই,
মাখন, আলু, কমলা,
লেবু, কড়াঁইশুটি, আম,
কলা, খেজুর সোয়াবিন, ধনেপাতা
প্রভৃতি ভিটামিন এ য়ুক্ত খাবার বেশী পরিমাণে সেবন করলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
রাতকানা রোগের কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা:
রাতকানা রোগ সাধারণত: ভিটামিন এ এবং বি এর অভাবেই হয়ে থাকে। ধোঁওয়া, ধূলো,
তীব্র আলোয় বেশীক্ষণ কাজ করার জন্যও রাতকাণা রোগ
হতে পারে। রাতকানা রোগে রোগী দিনের বেলায় সবকিছু দেখিতে পায় কিন্তু রাতের বেলায় রোগী কিছুই
দেখিতে পায় না। সূর্য অস্ত যেতেই রোগীর চোখের জ্যোতি কমে আসতে লাগে।
*সাদা পেঁয়াজের ঈস ১০ মিলি এবং খাঁটি মধু ১০ মিলি নিয়ে একসাথে মিশিয়ে দুটি চোখে
২-২ ফোঁটা দিলে রাতকানা রোগ আরোগ্য হয়ে থাকে।
*তুলসী পাতার রস এবং বেদানার রস চোখে দিলেও রাতকানা রোগে উপকার পাওয়া যায়।
*দূর্বা ঘাসের রস অথবা কচি ধনেপাতা পিষে সেটার জল চোখে লাগান এবং প্রতিদিন ৪
মুনক্কা গোলমরিচের সাথে সেবন করুন রাতকানা রোগে উপকার পাবেন।
*প্রতিদিন আহারের পর চোলাই শাক নুন লঙ্কা ছাড়া খেলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই উপকার পাওয়া যায়।
*৪চামচ বথুয়া পাতার রস পান করলে ২-৩ ফোঁটা চোখে দিলেও
রাতকাণা রোগ আরোগ্য হয়।
*প্রতিদিন রাত্রে ত্রিফলা চূর্ণের সেবন এবং প্রাতে: ত্রিফলা
চূর্ণের জল দ্ধারা অথবা হরিতকী ভিজানো জল দিয়ে চোখ ধৌত করলেও রাতকাণা রোগে উপকার দর্শে।
*জলে ভিনিগার আর মধু মিশিয়ে দিনে ২ বার সেবন করলেও রাতকানা রোগে লাভ হয়।
*গোলাপ জলে তাজা শশার রস মিশিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে চোখে দিলে রাতকানা রোগে তৎক্ষনাৎ
লাভ হয়।
*রাতকানা রোগে তীব্র আলো, ধূলো-বালি,
ধোঁওয়া আর ছোট অক্ষরের লেখা পুস্তক ও খবরের কাগজ থেকে দূরে থাকা উচিত।


0 टिप्पणियाँ