হাতের আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যতা ও অগ্রভাগ থেকে জীবন-চরিত্র:


জ্যোতিষ শাস্ত্রানুসার কোন মানুষের হাতের আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যতা থেকেও তাঁর জীবন-চরিত্রের অনেক দিক জানা যেতে পারে:
কোন জাতকের আঙ্গুলেরর দৈর্ঘ্য বেশী অর্থাৎ মাত্রাতিরিক্ত হলে সেই জাতকের মধ্যে অতি বাস্তবভাব থাকবে যাঁর জন্য পদে পদে ভূল-ভ্রান্তি এদের একটু বেশী হয়ে থাকে। এরা কখনও ক্রোধ করলেও খুবই তাড়াতাড়ি শান্ত হয়ে যান। অত্যাধিক ভাবুক প্রবণতা ও যাঁর-তার প্রতি অত্যন্ত বিশ্বাস করে ফেলার জন্য এরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই কোনসমাজ গর্হিত মূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।
আঙ্গুলগুলি স্বাভাবিক দীর্ঘ থাকলে জাতকের মধ্যে প্রেম ও স্নেহের আকর্ষণ খুবই বেশী থাকে। এরা সব কাজ নির্বিবাদে করতে খুবই ভালোবাসেন। কোন কিছু বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা এদের মধ্যে খুবই বেশী থাকে। অত্যাধিক স্নেহপ্রবনতার কারণে এদের মধ্যে ভাবুক প্রবণতা খুবই বেশী থাকে।
হাতের আঙ্গুলগুলি দীর্ঘ ও সরু হলে জাতকের মধ্যে যথেষ্ট কূটবুদ্ধি থাকে। এরা গূণী, শিল্পী ও কাজে খুবই পটু হয়ে থাকেন।
আঙ্গুলগুলি মাঝারি আকারের হলে জাতক সবকিছুতেই সামঞ্জস্য রেখে চলে, মাঝে মাঝে খুবই শান্ত, আবার কখনো কখনো খুবই ক্রোধী হয়ে উঠেন। এদের মধ্যে নানা বিদ্যা থাকে এবং এরা খুবই পরিশ্রমী হোন।
হাতের আঙ্গুলগুলি বেঁটে হলে জাতকের মধ্যে বোধ শক্তি খুবই বেশী থাকে। পরিষ্কার ভাব চিন্তা, বাস্তববাদী, অর্থবান ও সৎ প্রকৃতির হয়ে থাকেন। আর যদি হাতের আঙ্গুলগুলি খুব বেঁটে হলে জাতক যাযাবর প্রকৃতির, অলস, লোভী, নানা মামলায় জড়িত, কলহপ্রিয়, অসামাজিক ও মূর্খ হয়ে থাকে।
হাতের তর্জনী ও অনামিকার দৈর্ঘ সমান হলে জাতকের মধ্যে প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে এদের কামনা বাসনা বেশী হয়। এরা খুবই ধনবান ও যশস্বী হন, তাদের মধ্যে নানা গুন থাকে এরা খুব সহজেই বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে সহজেই নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে নিতে পারেন।
হাতের তর্জনী আঙ্গুল অনামিকার চেয়ে খুবই ছোট হলে জাতক খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও হৈ-চৈ, বিলাস-ব্যসন এবং লোভপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকতে খুবই ভালোবাসে। হাতের কানিষ্ঠা আঙ্গুলী ও তর্জনী একই মাপের হলে জাতকের মধ্যে নানা সৃজনশীল প্রতিভা থাকে। এদের কূটবুদ্ধি খুবই প্রখর হয়। এরা বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হোন। এদের মান-যশ-সম্মান খুবই বেশী হয়।
কনিষ্ঠা তর্জনী থেকে দীর্ঘ হলে জাতক আত্মপ্রত্যয়হীন ও মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে থাকে। জাতকের মধ্যে নানা সৎগুণ থাকলেও তা প্রকাশ পায় না।
আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে ফল:
জ্যোতিষ শাস্ত্রানুসার হাতের আঙ্গুলির অগ্রভাগ সাধারণত: চার প্রকারের হয়ে থাকে যথা: ১)চোখা ২)মোচা ৩)চৌকা এবং ৪)চ্যাপ্টা
হাতের তর্জনী আঙ্গুলি চোখা হলে জাতকের মধ্যে দৈবানুভুতি খুবই বেশী থাকে, এরা আদর্শবাদী ও ধার্মক হয়ে থাকেন। তর্জনী আঙ্গুলি মোচাকৃতি হলে জাতকের মধ্য়ে মনের পূর্ণতা ও পাঠ প্রবৃত্তি বেশী থাকে। তর্জনী আঙ্গুলি চৌকা হলে জাতক খুবই সত্যবাদী হয়ে থাকে এরা মিথ্যা কথা মোটেই পছন্দ করেন না। তর্জনী আঙ্গুলি চ্যপ্টা হলে জাতকের মধ্যে তীব্র কামনা-বাসনা থাকে।
হাতের মধ্যমা আঙ্গুলি চোখা হলে জাতকের মধ্যে আদি ভৌতিক ব্যাপারে খুবি আসক্তি জন্মায়। মধ্যমা আঙ্গুলি মোচাকৃতি হলে জাতক খুবই সুচিন্তক হয়, সবসময় ধর্মচিন্তা করতে ভালোবাসে। মধ্যমা আঙ্গুলি চৌকা হলে জাতক খুবই বাস্তববাদী হয়ে থাকে। আর যদি মধ্যমা আঙ্গুলি চ্যাপটা হলে জাতক সবকাজেই সক্রিয় থাকতে ভালোবাসে, এরা খুবই সামাজিক হয়ে থাকেন।
হাতের অনামিকা আঙ্গুলি চোখা হলে জাতক সাহিত্য ও শিল্পকে খুবই ভালোবাসে, এরা সচরাচর ভালো শিল্পী বা অভিনেতা হয়ে থাকেন। অনামিকা আঙ্গুলি মোচাকৃতি হলে সাহিত্যিক হয়, কবিতা গল্প লিখতে খুবই ভালোবাসবে। অনামিকা আঙ্গুলি চৌকা হলে জাতক সত্য-শিব ও সুন্দরের ভক্ত হয় অর্থাৎ এরা আদর্শবান, ধর্মপরায়ন ও সুন্দরের পূজারী হয়ে থাকেন। অনামিকা আঙ্গুলি চ্যাপ্টা হলে জাতক অভিনয় করতে খুবই ভালোবাসে।
হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলি চোখা হলে জাতক খুবই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রীক হয়ে থাকে এরা সবকিছুই শুধ নিজের জন্য করতে চান। কনিষ্ঠা আঙ্গুলি মোচাকৃতি হলে জাতক খুবই বুদ্ধিমান হয় এদের স্মরণশক্তি খুবই তেজ হয়। কনিষ্ঠা আঙ্গুলি চৌকা হলে জাতক পড়তে খুবই ভালোবাসে এরা বিদ্বান হোন। এবং কনিষ্ঠা আঙ্গুলি চ্যাপটা হলে জাতক সু-ব্যবসায়ী হয়, এরা ব্যবসা-বাণিজ্যে খুবই সুনাম ও অর্থ অর্জন করে থাকেন।

एक टिप्पणी भेजें

0 टिप्पणियाँ