অথ গণফল কথন:
মান্যতানুসারে দেবলোক থেকে যাঁরা কোন কারনে চ্যুত হয়ে মানব যোনিতে জন্ম নিয়ে থাকেন তাদের দেবগন হয়ে থাকে, এই জন্য এদের মধ্যে অনেকটা দেবত্বের সাত্বিকতা দেখতে পাওয়া যায়। আর যাঁরা পূর্ব জন্মেই মানুষ ছিল এবং কোন পুন্য ফলে এজনমেও মানুষ জনম পেয়েছেন তাদের নরগণ হয়ে থাকে , এই জন্য নরগণের মানুষের মধ্যে মানবজনচিত সাম্য ভাব দেখতে পাওয়া যায়। এবং যাঁরা পূর্ব জন্মে অসুর কুলে ছিল
কিন্তু নিজের সাধনোচিত ফলে এজনমে মানব জনম পেয়েছে তাদের রাক্ষস গন বা দেবারী গণ হয়ে থাকে এইজন্য দেবারী গণের মানুষের মধ্যে একটু উগ্রতা ও তামসিকতা ভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। উপরের সবই কথা লিখা হয়েছে লোক মান্যতানুসার ।
কিন্তু নিজের সাধনোচিত ফলে এজনমে মানব জনম পেয়েছে তাদের রাক্ষস গন বা দেবারী গণ হয়ে থাকে এইজন্য দেবারী গণের মানুষের মধ্যে একটু উগ্রতা ও তামসিকতা ভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। উপরের সবই কথা লিখা হয়েছে লোক মান্যতানুসার ।
জ্যোতিষ শাসত্রানুসার :
দেবগনের মানুষ: দেবগনের মানুষ সাধারণত উদার, দানশীল, বুদ্ধিমান, বলশালী, ভোগী ও জ্ঞানবান হয়ে থাকেন।
নরগনের মানুষ: ধার্মিক, লক্ষ্যভেদী, মানী , কোমল মনের অধিকারী এবং আনন্দ বিধানকারী হয়ে থাকেন।
রাক্ষস গনের মানুষ: কিছুটা উগ্র প্রকৃতির, চঞ্চল স্বভাবযুক্ত, দুঃসাহসী ও অহংকারী প্রকৃতির হয়ে থাকেন তাছাড়া রাক্ষসগণ বা দেবারী গণের মানুষের মধ্যে কাম বাসনাও অর্থাৎ Sex একটু বেশি হয় অন্যান্য গণের মানুষের থেকে (জ্যোতিষ শাস্ত্রনুসার দেবগনের মানুষের কাম বাসনা খুবই কম হয়, নরগনের মানুষের মোটামুটি অর্থাৎ মধ্যম এবং রাক্ষস গণের মানুষের সব থেকে বেশি) । এই জন্য বিবাহের সময় ছেলে বা মেয়ের অভিবাবকেরা পাত্র বা পাত্রীর গণের উপর এত বেশি প্রাধান্যতা দিয়ে থাকেন । কারণ বিবাহ নামক সম্পর্ক টাই প্রধানত শারীরিক সম্পর্কের উপরই গড়ে উঠে , সংসার ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালো শারীরিক সম্পর্ক হওয়া নিতান্ত দরকার। যদি একজনের কামবাসনা বেশি হয় আর আরেক জনের কামশক্তি কম হয় তাহলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কখনই ঠিকবে না , বিবাহ জীবনে সে মধুরতাও আসবে না, পরকীয়া প্রেমের সূত্রপাত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শারীরিক অসন্তুষ্টার জন্যই হয়ে থাকে। আর যদিও বা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ঠিকে থাকে কিন্তু শারীরিক দিক থেকে ভালো কখনই যাবে না। যাঁর কাম বাসনা কম কিন্তু বিবাহ ধর্ম নিভাতে গিয়ে প্রতিদিন শারীরিক সম্পর্ক করতে হচ্ছে তাঁর নানা রূপ শারীরিক দুর্বলতা ও রোগ দেখা দিবে স্বাস্থ্যও কখনও ভালো যাবে না তাতে আয়ুও কমবে। অথবা যাঁর কামবাসনা বেশি কিন্তু জীবন সাথির দুর্বলতার জন্য পর্যাপ্ত কাম সুখ নিতে পারছেন সেক্ষেত্রে এমন ব্যক্তি মানসিক দিক থেকে নানা বিকারের শিকার হতে পারে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রানুসার বিবাহে গণ বিচারের প্রয়োজনীয়তা:
বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর গণ ভালো করে বিচার করে অবশ্যই দেখা উচিত, কারণ
উভয়ের গণের মধ্যে সমতা কিংবা মানানসইতা না থাকলে বিবাহিত জীবনে অনেক বিরুপ প্রভাব পরতে পারে। এর মধ্যে অকালে বৈধবতা পারিবারিক অশান্তি প্রভৃতি প্রমুখ। এই জন্য বিবাহের পুর্বে কোন বিজ্ঞ জ্যোতিষী দিয়ে নামরাশি অথবা উভয়ের জন্মছক মিলিয়ে নেওয়া কর্তব্য, যাঁরা হুজ্জগে কাজ করেন তারাই শেষে পস্তান। যেখানে বিবাহে লাখ টাকা কোটি টাকা
খরছ করতে পারছেন সেখানে কী সামান্য টাকা খরছ করে যোটক বিচার করানো যায় না ?? সবই যায় কিন্তু আসল কথা হলো সদ মানসিকতার অভাব ।
দেবগণের পুরুষের সঙ্গে নরগণের কন্যার বিবাহ শুভ হয়, আর কন্যাও যদি দেবগণের হয় তাহলে তো অতি উত্তম যোগ হয়ে থাকে । দেবগণের সঙ্গে রাক্ষসগণের বিবাহে সারা জীবন কোন না কোন দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতে পারে, রাক্ষস গণের সঙ্গে রাক্ষসগণের বিবাহও সূখকর হয় না, অন্যান্য শুভ যোগ না থাকলে বিবাহিত
জীবনে অশান্তি লেগেই থাকবে।রাক্ষসগনের নরগনের বিবাহ দেওয়াটা কদাপিই ঠিক কারণ
তাতে অকালে বৈধব্য বরণ করতে হয়। অবশ্য আন্যান্য শুভযোগের প্রভাবে ফলাফলে তারতম্য হয়ে থাকে।
এ জন্যই বিবাহের ক্ষেত্রে যৌন সমতা সবার আগে দেখতে হয় ,যাঁর অভিবাবকেরা প্রথমেই পাত্র বা পাত্রীর গণ জানার জন্য উৎসুক হয়ে উঠেন। অবশ্য বিবাহাদি বিচারের ক্ষেত্রে শুধু গণ বিচার করলেই হয় না আরও অন্যান্য দিক বিচার করে দেখতে হয়।
কারণ কারো রাক্ষস গণ হলেই যে খারাফ হবে তা কখনই সত্যি নয় , কারণ জনমছকের অন্যান্য দিক শুভ থাকলে এবং পাত্র পাত্রীর মধ্যে রাশির সমতা থাকলে যে কোন গনের সাথে যে কোন গনের মেয়ের বিবাহ হতে পারে এতে দোষের কিছু নেই । অর্থাৎ রাক্ষস গনের পাত্রী ও দেব গনের পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও বিবাহ হতে পারে তাতে কোন ক্ষতি নেই। এইজন্য শুধু গন দেখেই বিবাহের আলাপ ভেঙ্গে দেবেন না। ভালো করে যোটক বিচার করানো উচিত।
